ছবি : প্রতিনিধি
পিরোজপুর: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের চিরাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হাওলাদারের ছেলে খামারী মো. রফিকুল ইসলামের পালিত বিশাল আকৃতির ষাঁড় “জমিদার” এখন এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ষাঁড়টি এক নজর দেখতে ও ক্রয়ের আগ্রহে প্রতিদিনই তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা।
খামারী রফিকুল ইসলাম বলেন, আড়াই বছর বয়সী দেশীয় জাতের এই ষাঁড়টির নাম তিনি আদর করে রেখেছেন “জমিদার”। ছোটবেলা থেকেই নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গরুটি লালন-পালন করেছেন। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ৬৭০ কেজি ও আকৃতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমি সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটি বড় করেছি। খড়, ভুসি, ঘাস, ধানের কুঁড়া ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার দিয়েছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করিনি। নিজের হাতে পরিচর্যা করেছি বলেই গরুটি এত সুন্দর হয়েছে। আমি এর দাম চেয়েছি ৬ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা দাম উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। অনেকে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। এতে আমি অনেক আনন্দ পাচ্ছি।
এলাকাবাসীরাও “জমিদার” ষাঁড়টিকে নিয়ে বেশ উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শুকুর আলী বলেন, আমরা অনেক বড় গরু দেখেছি, কিন্তু এই গরুটির গঠন ও সৌন্দর্য আলাদা। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ দেখতে আসছে। এটি এখন এলাকার আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, রফিকুল খুব যত্ন করে গরুটি পালন করেছে। গরুটি দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর। ঈদ সামনে হওয়ায় মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
কাউখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সোমা সরকার বলেন, উপজেলায় কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকি। রফিকুল ইসলামের খামারও আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তিনি প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরুটি লালন-পালন করেছেন। কোনো ক্ষতিকর হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমন উদ্যোগ অন্য খামারিদেরও উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :